সিলেটের লালাখাল,পান্থুমাই,লক্ষণছড়া গ্রাম
0
July 02, 2021
ঈদের ছুটিতে বন্ধুরা রাতে আড্ডা দিচ্ছি হঠাৎ এক বন্ধু বলে উঠলো 'চল ঘুরতে যাই কোথাও' আমার অনেকদিনের প্ল্যান লালাখাল,পান্থুমাই,লক্ষণছড়া যাবো ঘুরতে,তখন বাজে রাত ৯ টা,বন্ধু ছিলাম ৮ জন সেখানে রাজি হলো ৬ জন ।
যেমন কথা তেমন কাজ ২ ঘন্টায় একদম সব কাজ সেরে রওনা হয়ে গেলাম নরসিংদী থেকে রাত ১২ টার মধ্যে সিলেটের উদ্দেশ্যে বাসে ।
.
ভোর ৫ টার আগে পৌছে যাই সিলেটের মাজার গেইট ।ঢুকে গেলাম হযরত শাহজালাল মাজারে ।ফযরের নামাজ টা পড়ে জিয়ারত টা সেরে ফেললাম ।হোটেলে হালকা নাস্তা করে ভোরের আলোয় উঠে গেলাম সিনজি তে লালাখালের উদ্দেশ্যে ।লালাখাল পৌছতে সময় লাগে প্রায় এক থেকে দের ঘন্টার মত,নামিয়ে দেয় একদম লালাখালের নৌকা ঘাটে ।ঘাট থেকে নৌকা রিজার্ভ নিলাম ঘুরার জন্য,
বললো ৪ টা স্পট ঘুরাবে আর আমরা যতক্ষণ খুশি সময় স্পটে থাকতে পারবো,
১-জিরো পয়েন্ট
২-চা বাগান
৩-সুপারি বাগান
৪-বর্ডার
আমি বলবো এই শর্তে ভাই ভুলেও যাবেন না,৪ টা স্পটই প্রায় একসাথে,সুনির্দিষ্টভাবে অরকম কিছুই নাই আর যায়গা গুলা মনে হলো ঘাট থেকে ১ কি.মি দূরেও না ।
.
লালাখাল ঘুরে ঘাট থেকে আবার সিএনজি নিলাম সারি ঘাট যাওয়ার জন্য,তখন বাজে সকাল ১১ টার মতো আমাদের আবার খুদা লেগে যায় তখন সিএনজি মামা সারি ঘাটের ঠিক একটু আগে হাতের বাম পাশে রাস্তার নিচের দিকে একটা ভাতের হোটেল আছে বললো ওখানে খাবার নাকি খুবই ভালো(হোটেলের নামটা মনে নাই) ।গেলাম,৩ জন বন্ধু নিলো মুরগী ভূনা আর বাকি ৩ জন হাসের ভূনা(এটা বেস্ট) খুবই সুস্বাদু,ভিউ টাও খুব সুন্দর ছিলো নদীর সাথে ।খাওয়া দাওয়া শেষ করে একটু বিশ্রাম নিলাম তারপর সারি ঘাট থেকে সিনজি নিয়ে রওনা হলাম গোয়াইন ঘাটের দিকে। গোয়াইন ঘাট গিয়ে দেখলাম এখন কোনো কারণে ওখান থেকে নৌকা চলাচল বন্ধ আছে পরে ওখান থেকেই সিএনজিতে চলে গেলাম সরাসরি পান্থুমাই তখন বাজে দুপুর দুটার মতো ।ওখানে রাস্তায় নেমে ২ মিনিট হাটতেই দেখি ভারত থেকে প্রবাহিত সুন্দর পান্থুমাই ঝর্ণাটি ।দেখলেই ক্লান্তি দূর,আপনারা চাইলে গোসল করতে পারেন,নৌকা দিয়ে ঘুরতে পারেন কিংবা বিছানাকান্দিও যেতে পারেন।
পান্থুমাই সময় দেয়ার পর রাস্তায় বেক করে আবার সিএনজি নিয়ে চলে গেলাম লক্ষণছড়া,১০-১৫ মিনিটের রাস্তা । সিএনজি অর্ধেক রাস্তা যায় বাকীটা পরে আমরা হেটে যাই ।সিএনজি থেকে নেমে সামনের দিক হাটা শুরু করি ৫ মিনিট হাটার পর ছোট নৌকা দিয়ে ওপারে যাই(খুব ছোট একটা নদী) সেখানের এক লোকাল ভাই আমাদের কিছু ইনফো আর কিছু টিপ্স দিয়েছিলো,তার কথা মতই আগাই।ওখানে আবার বুধবারে নাকি ভারতের হাট বসে এটা আমরা জানতামনা,অইদিন ছিলো বুধবার,শুনে যাওয়ার ইচ্ছে হলো হাটতে হাটতে সবার সাথে ঢুকে পড়লাম বাজারে (ওখানে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষেধ) বাজার টা দেখতে সুন্দর,পূরোনো গ্রামের হাট গুলোর মতো,আমরা নারিকেলের আইসক্রিম খেলাম,আবার দেখি বিএসএফ টহল দিচ্ছে,বাজারটা বিকেল ৩ টা পর্যন্ত থাকে সম্ভবত ।বাজার থেকে বের হলাম বের হয়ে মানুষদের জিজ্ঞাসা করলাম লক্ষ্মছড়া গ্রামটা কোন দিকে তখন দেখিয়ে দিলো রাস্তা।প্রায় ১৫-২০ মিনিট হাটার পর পৌছালাম ব্রীজ টার এখানে,এর আশপাশের পুরোটা যায়গাই হলো লক্ষনছড়া। ভারতের ছিটমহল রয়েছে অনেক ছড়িয়ে ছিটিয়ে ।
মায়াবী সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর পরিবেশ,ছোট ছোট ছেলে আছে খুবই ভালো,তারা আপনি কিছু খেতে চাইলে টাকা দিয়ে দিবেন ওরা এনে দিবে । আমরা চিপ্স,পানি,চানাচুর খাই এমনকি পরে তারা আমাদের গাছ থেকে কমলাও এনে দিয়েছে,ওখানের পরিবেশ টাই এমন আপনি কেমন যেনো একটু হারিয়ে যাবেন ।গোসল করলাম,ছবি নিলাম,মজা করলাম পরে বিকেলে বেক করি।যেভাবে আসলাম আবার ওভাবেই রওনা হই।
পান্থুমাই থেকে লক্ষণছড়া যাওয়া আসা একটি সিএনজি রিজার্ভ করে নিলে ভালো হয় কারণ ওখানে সহজে সিএনজি পাওয়া যাবেনা ।
বিকালে রওনা হই লক্ষনছড়া থেকে সন্ধ্যার মধ্যে এসে যাই সিলেট শহরে,এখানে এসে জম্পেশ একটা খাওয়া দিলাম Spice Village এর স্পেশাল বিরিয়ানি দিয়ে,রেস্ট নিয়ে রাত ৯ টায় বাসে উঠে চলে আসলাম নরসিংদীতে ।
.
খরচাপাতি পার হেড,
ভেলানগর-সিলেট বাস ভাড়া ২৫০/-
ভোরে নাস্তা ৪৫/-
সিলেট-লালাখাল সিএনজি (৫০০/৬) ৮৫/-
লালাখাল নৌকা ভাড়া (৮০০) ১৩৫
লালাখাল-সারি ঘাট (১৮০) ৩০/-
সকাল দূপুরের মাঝের খাবার হাঁস,ডাল,ভাত ১৪০ বা মুরগী,ডাল ভাত ১২০/-
সারি ঘাট-গোয়াইনঘাট (১৮০) ৩০/-
গোয়াইনঘাট-পান্থুমাই (২৭০) ৪৫/-
পান্থুমাই-লক্ষণছড়া সিএনজি (১০০) ১৫
লক্ষণছড়া নৌকা পারাপার ১০/-
হাবিজাবি খাওয়া (৬০০) ১০০/-
লক্ষনছড়া-সিলেট (৮০০) ১৩৫/-
সন্ধ্যায় খাবার,বিরিয়ানি (১৯২০) ৩২০
সিলেট-নরসিংদী বাস (১৫০০) ২৫০/-
সব মিলিয়ে পার হেড খরচ হয়েছে ১৬০০ টাকার মতো ।
.
বিঃদ্রঃ
*শুধু পান্থুমাই,লক্ষণছড়া যেতে চাইলে সিলেট থেকে হরিপুর দিয়ে আরো কম সময়ে যাওয়া যায়।
*পুরোটা এরিয়া তেই বাংলাদেশি ক্যাম্প ও অইপাশে ইন্ডিয়ান সেনারা আছে তাই বেশি হইহুল্লুর না করাটাই ভালো,এমনেতে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি ।
*রাতে থাকার তেমন কিছু নাই,তবে ক্যাম্পিং করা যেতে পারে।
*ওখানে মানুষগুলো খুবই ভালো তবে সিএনজি ওয়ালাদের সিন্ডিকেট,স্ট্যান্ড এর লোক ও তাদের সিস্টেম গুলো খুবই বিরক্তিকর ।
*ওয়েদারটা একটু ঠান্ডা,মেঘাচ্ছন্ন আর পর্যাপ্ত পানি থাকলে অবিকল ছবির মতোই দেখতে পাবেন ।
*কোথাও ময়লা আবর্জনা ফেলবেননা ।




