" টাঙ্গুয়ার হাওড়,সুনামগঞ্জ।
"
যারা সিলেট হয়ে টাঙ্গুয়ার হাওড়ে যেতে আগ্রহী তাদের জন্যই এই পোস্টটি।
সিলেট→কুমারগাও বাস স্ট্যান্ড→সুনামগঞ্জ →তাহেরপুর→টাঙ্গুয়ার হাওড়→টেকেরঘাট→নীলাদ্রি লেক।
গত দুই দিন ঘুরে আসলাম সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওড়,শনির হাওড়, টেকেরঘাট, নীলাদ্রি সহ আরো অন্যান্য স্থান সমূহ।
প্রথমে,, সিলেটের কুমারগাও বাস স্ট্যান্ড থেকে " বিরতীহীন বাস সার্ভিস " এ করে সুনামগঞ্জেরর উদ্দেশ্যে রওনা হতে হবে। প্রায় দেড় ঘন্টা লাগবে সুনামগঞ্জ পৌছাতে। জন প্রতি ৯০ টাকা করে। এছাড়াও সিএনজি অথবা লোকাল বাসও আছে। লোকাল বাস জন প্রতি ৬০-৭০ টাকা করে নিবে। লোকাল বাসে করে ২ ঘন্টার মত লাগতে পারে।
তারপর, সুনামগঞ্জে বাস থেকে নেমে টম টমে করে যেকোন হোটেলে উঠতে পারেন। আমরা রাত সাড়ে দশটা-এগারো টা করে সুনামগঞ্জ গিয়ে পৌছাইছিলাম বলে হোটেলে ছিলাম। সেখানে উত্তরা ব্যাংকের উপরে একটি হোটেল আছে। স্বস্তা এবং যথেষ্ট ভালো। তিন বেডের রুম ৭০০ টাকা পার ডে।
অতঃপর, ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবারের জন্য গেলাম " লঞ্চ ঘাট " এ। হেটে গেলে পাঁচ মিনিট আর টমটমে গেলে জনপ্রতি ৫ টাকা করে নিবে। হোটেলের বয়গুলোকে বললেও তারা নিয়ে যাবে। এককথায়, স্বাদের বিবেচনায় সেরা একটা হোটেল। মাছ ভর্তা, গাঙের রুই আর ডালের স্বাদ ভুলার মত নয়। তাছাড়া তাদের আতিথেয়তাও বেশ আন্তরিক।
অতঃপর, ফ্রেশ হয়ে রাতের খাবারের জন্য গেলাম " লঞ্চ ঘাট " এ। হেটে গেলে পাঁচ মিনিট আর টমটমে গেলে জনপ্রতি ৫ টাকা করে নিবে। হোটেলের বয়গুলোকে বললেও তারা নিয়ে যাবে। এককথায়, স্বাদের বিবেচনায় সেরা একটা হোটেল। মাছ ভর্তা, গাঙের রুই আর ডালের স্বাদ ভুলার মত নয়। তাছাড়া তাদের আতিথেয়তাও বেশ আন্তরিক।
পরেরদিন, সকাল ৭.৩০ টার দিকে হোটেল থেকে বের হয়ে পাশেই " রোজ গার্ডেন " এবং অন্য একটি ভালো হোটেল আছে। অন্য হোটেলটির নাম ঠিক মনে নাই। সেটিতেই সকালের নাস্তা করেছিলাম। দাম কম তবে খাবার বেশ ভাল
নাস্তা শেষে হোটেল থেকে বের হলেই সেখানে সিএনজি স্টপেজ আছে। #তাহেরপুরের জন্য যাত্রীদের তারাই ডাকবে। জনপ্রতি ১০০ টাকা করে। রিজার্ভ পাঁচ জন ৫০০ টাকা প্রতি সিএনজি। অতঃপর দেড় ঘন্টা সিএনজি যাত্রা শেষে পৌছাবেন তাহেরপুর। যাওয়ার পথে বেশ কয়েকটি নদী আর হাওড়ও চোখে পরবে। তাহেরপুর গিয়ে সেখান থেকে নৌকা ভাড়া করে যেতে হবে টাঙ্গুয়ার হাওড়ের পথে। বৃৃহস্পতি আর শুত্রবার হলে তাহেরপুর গিয়ে নৌকা ভাড়া করাটা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। তবে আপনারা চাইলে আগে থেকেও ফোন করে মাঝির সাথে কথা বলে নৌকা ভাড়া করতে পারেন।
তাহেরপুর থেকে প্রথমে টাঙ্গুয়ার হাওড়ের Watch tower এ গিয়ে গোসল আর ছোট্ট ডিঙ্গি নৌকায় চারপাশে ঘুরোঘুরি করতে পারবেন। ডিঙ্গি নৌকা গুলোর মাঝি হচ্ছে সব ছোট পোলাপাইন। তাদের কে ২০-৩০ টাকা তিয়ে যতক্ষণ ইচ্ছা নৌকাভ্রমণ করতে পারবেন। গান গাইতে বললে গানও গাইবে তারা।
অতঃপর টেকেরঘাটের দিকে রওনা দিবেন। টেকেরঘাট পৌছে নৌকা ভিড়ানোর পর চোখের সামনে একটি স্মৃতিসৌধ দেখতে পাবেন। তার ডান পাশেই দেখা যায়, নীলাদ্রি লেক। আর স্মৃতিসৌধের বাম পাশে যে রাস্তা গেসে তা দিয়ে বারিক্কার টিলা, লাক্কাছড়া,ভারত-বাংলাদেশ বর্ডার এসবে যাওয়া যায়। তবে বলে রাখি, টেকেরঘাটে কোন ভালো খাবারের হোটেল নাই। তাই খাবারের ব্যবস্থা মাঝির সাথে কথা বলে, তাহেরপুর থেকে করে ফেলাই ভালো হবে।
বিকালটা আশেপাশে ঘুরে সন্ধ্যার দিকে নৌকাটা নিয়ে আসা হবে হাওড়ে। তারপর সারারাত উপভোগ করতে পারবেন আকাশের তারা আর চাঁদের খেলা। যদিওবা আমরা পূর্ণিমা পেয়েছিলাম। সারারাত হাওড়ে থেকে পরেরদিন সকালে আবার তাহেরপুরর ব্যাক করবেন।
তারপর আবার আগের মত সিএনজি নিয়ে সুনামগঞ্জ এবং অতঃপর বাসে করে সিলেটে।
আমরা যে নৌকাটা ভাড়া করেছিলাম তার মাঝি ছিল দুইজন। দুইজন ই যুবক বয়সের এবং যথেষ্ট ভদ্র ও বিশ্বাসযোগ্য ছিল। সম্পূর্ণ ট্যুরে তাদের আন্তরিকতা ছিল অন্য লেভেলের। তাদের এক জনের নাম " কবির " আর অন্যজন " আল-আমীন "। আপনারা চাইলে তাদের সাথে কথা বলে যাওয়ার আগেরদিন রাতে কথা বলে নৌকা ভাড়া করে নিতে পারেন। তাদের নৌকার ছবি,নৌকার ভিতরের গঠন ও মাঝিদের নাম্বারও দিয়ে দিচ্ছি আমি। চাইলে তাদের সাথে কথা বলে নৌকা ভাড়া করতে পারেন। টাকার ব্যাপারে তাদের সাথে দর কষা-কষি করে নিবেন।
কবির : 01721109393
আল-আমীন : 01721183958
আল-আমীন : 01721183958


